আল মামুন | ১০:৫৩ পিএম, ২০২৫-০৫-০৮
মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ‘নিউজিল্যান্ড’। এই‘নিউজিল্যান্ড’ যেতে লাগে না কোন ভিসা পাসপোর্ট। খাগড়াছড়ি শহরের ঘেঁষা পানখাইয়াপাড়া সড়ক হয়ে যেতে হয় নিউজিল্যান্ডে। ভ্রমণ পিঁপাসুদের হৃদয় জুড়ানো সবুজের সমারহে বিকেলের সময়ে এখানে বসে জনমানুষের হাট।
কেউবা হাটতে। আবার কেউ বা নিজেকে সবুজের প্রন্তরে ঘাঁ ভাসিয়ে নিজেকে মেশাতে চায় প্রকৃতির সাথে। ভ্রমণের দর্শনীয় স্থান হিসেবে এই স্থানটি এখন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে খাগড়াছড়িতে। দুই পাশে সবুজ ধানের খেত পেরিয়ে চোখ আটকে যাওয়া সবুজ পাহাড়। শেষ বিকেলে পশ্চিমের আকাশে ‘সোনার সিংহ’ হলুদ আভা ছড়ায় তেপান্তরে।
অনবদ্য এক ল্যান্ডস্কেপ ধরা দেয় খাগড়াছড়ির ‘নিউজিল্যান্ড’ এ। নামের কারণেই এলাকাটি সবার কাছে পরিচিত। নামের কারণেই অনেকে আবার কৌতুহল-উদ্দীপক হয়ে বেড়াতে আসে। গ্রীষ্মের পাকা ধানের হাসিতে কারণে ‘নিউজিল্যান্ড’ আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ‘নিউজিল্যান্ডে’ প্রায় এক দশক পর নতুন করে সড়ক সংস্কার করেছে খাগড়াছড়ি পৌরসভা। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরের নিউজিল্যান্ড এলাকাটি পানখাইয়া পাড়া ও আপা পেরাছড়াকে যুক্ত করেছে। সড়কটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকার নামকরণ কীভাবে হল তা নিয়ে স্পট কোনো তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হয়- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে পাখির চোখে দেখতে এলাকাটি অনেকটা নিউজিল্যান্ডের সাদৃশ্য হওয়ায় এমন নামকরণ বলে ধারণা স্থানীয়দের। প্রতিদিন বিকেলে থেকে এখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ে। অনেকে আবার প্রাতঃভ্রমণেও আসেন।
সম্প্রতি এক বিকেলে ‘নিউজিল্যান্ডে’ গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীর ব্যাপক সমাগম হয়েছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ শেষ বিকেলে এখানে ভিড় করে। সড়কের লাগায়ো ধান খেতে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি তোলে।
স্থানীয় দর্শনার্থী কবিতা চাকমা বলেন, ‘সড়কটি আগে ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। তাই এখানে আসা হতো না। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখান থেকে সবুজ পাহাড় উপভোগ করা যায়। তাছাড়া যানবাহন সংখ্যা কম থাকায় নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করা যায়। তবে সড়কজুড়ে ফুলের বৃক্ষ রোপণ করলে এটি আরও বেশি আর্কষণীয় হয়ে উঠবে।’
‘নিউজিল্যান্ডের’ প্রায়ই বেড়াতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা চেলছি ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘শহরের মধ্যে সময় কাটানোর মতো জায়গা নেই। নতুন সড়ক নির্মিত হওয়ার পর থেকে সবাই নিউজিল্যান্ডে আসছে। আমি প্রায়ই আসি। এখানে বিভিন্ন মানুষ শরীরচর্চাও করে। একটি সড়ক পুরা এলাকার দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। বর্ষায় বৃষ্টির পর এখান থেকে মেঘও দেখা যাবে। পর্যটন শহর খাগড়াছড়ির নতুন ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে নিউজিল্যান্ড।’
বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থা ‘ঝটিকা সফর’ এর প্রতিষ্ঠাতা জান্নাতুল ফৌরদৌসি মানু বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড এলাকার ছবি দেখেছি। এখানে এসে দেখলাম এটি ছবির মতোই সুন্দর। আজকে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পর পুরো এলাকাটি আরও সবুজ হয়ে উঠেছে। সত্যিই মুগ্ধ করার মতো একটি জায়গা। খাগড়াছড়িতে যারা বেড়াতে আসবেন তারা যেন অবশ্যই নিউজিল্যান্ডে বেড়াতে আসেন।’
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পরে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করে খাগড়াছড়ি পৌরসভা। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নগর পরিচলন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৬শ মিটার সড়কটি নির্মাণ করে। এতে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি টাকা।
খাগড়াছড়ি একটি পর্যটন শহর। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা বেড়াতে আসে। সুবিশাল ধানের খেত এরপর আলুটিলা শহর। এখানকার ভিউ অসাধারণ। মানসিক প্রশান্তির জন্য বিকেলে প্রচুর মানুষ আসে। সকালে অনেকে প্রাতঃভ্রমণ করে। এখানে সড়কটি চলাচলের উপযোগী ছিল না।
সড়কটি নির্মিত হওয়া নাগরিকেরা উপকৃত হচ্ছে। সড়কের পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ চলছে। তাছাড়া এখানে স্ট্রিট লাইটও লাগানো হবে। পাশাপাশি সড়কের পাশে বিভিন্ন ফুলের গাছও লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited